Linux চালু করার সময় কখনও কখনও স্ক্রিনে ত্রুটির বার্তা দেখা যায় এবং সিস্টেম ডেস্কটপে যাওয়ার আগেই থেমে যায়। এ ধরনের বার্তা ভয়ের কারণ মনে হলেও, আসলে এগুলোই সমস্যার আসল কারণ খুঁজে বের করার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র।
এই লেখায় Linux চালুর সময় দেখা দেওয়া সাধারণ ত্রুটির কারণ এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী বিস্তারিত সমাধানের ধাপ ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
1. বারবার জোর করে রিস্টার্ট করবেন না
অনেক ব্যবহারকারী ত্রুটি বার্তা দেখেই কম্পিউটার বারবার রিস্টার্ট করতে শুরু করেন। কিন্তু যদি সমস্যা ফাইল সিস্টেম বা ডিস্ক-সংক্রান্ত হয়, তাহলে এতে অবস্থা আরও খারাপ হতে পারে।
প্রথমে যেগুলো করা উচিত:
- ত্রুটির সঠিক বার্তাটি লিখে রাখা
- স্ক্রিনের ছবি তুলে রাখা
- বুটের কোন ধাপে সমস্যা হচ্ছে তা লক্ষ্য করা
- সাম্প্রতিক পরিবর্তনগুলো মনে করা
যদি সাম্প্রতিক কোনো আপডেটের পর সমস্যা শুরু হয়ে থাকে, তাহলে kernel বা driver-এর সমস্যা হতে পারে। যদি হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে গিয়ে থাকে, তাহলে file system corruption-এর সম্ভাবনা বেশি।
2. সাধারণ বুট ত্রুটির ধরন
- GRUB বা bootloader-সংক্রান্ত ত্রুটি
- ফাইল সিস্টেম ত্রুটি
- kernel বা initramfs সমস্যা
- systemd service চালু হতে ব্যর্থ হওয়া
- GPU driver বা display সমস্যা
- ডিস্কে জায়গা ফুরিয়ে যাওয়া
- ডিস্কের হার্ডওয়্যার ত্রুটি
বাইরে থেকে সব সমস্যাই “Linux চালু হচ্ছে না” বলে মনে হতে পারে, কিন্তু বাস্তব সমাধান নির্ভর করে ত্রুটির ধরন অনুযায়ী।
3. বিস্তারিত বুট লগ দেখান
অনেক Linux ডিস্ট্রিবিউশন quiet splash ব্যবহার করে, যার ফলে বিস্তারিত ত্রুটির বার্তা দেখা যায় না।
আসল কারণ বোঝার জন্য GRUB থেকে এটি সাময়িকভাবে সরিয়ে ফেলা ভালো।
- কম্পিউটার রিস্টার্ট করুন
- চালু হওয়ার পরপরই Shift বা Esc কয়েকবার চাপুন
- GRUB-এ বুট এন্ট্রি নির্বাচন করে e চাপুন
quiet splashমুছে দিন- Ctrl + X চাপ দিয়ে বুট করুন
এতে বুটের কোন ধাপে সমস্যা হচ্ছে তা স্পষ্টভাবে বোঝা যায়।
4. যদি “grub rescue” বা “no such partition” দেখায়
যদি চালু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে grub rescue বা “no such partition” দেখা যায়, তাহলে সাধারণত bootloader বা partition structure-এ সমস্যা থাকে।
সাধারণ কারণগুলো:
- partition পরিবর্তন বা সরানো হয়েছে
- Windows dual boot-এর কারণে boot তথ্য ওভাররাইট হয়েছে
- EFI partition বা /boot partition ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে
- GRUB configuration নষ্ট হয়েছে
এক্ষেত্রে অনেক সময় Live USB দিয়ে বুট করে GRUB পুনরায় ইনস্টল করলে সমস্যা ঠিক হয়:
sudo mount /dev/sda2 /mnt
sudo mount /dev/sda1 /mnt/boot/efi # শুধু UEFI সিস্টেমের জন্য
sudo mount --bind /dev /mnt/dev
sudo mount --bind /proc /mnt/proc
sudo mount --bind /sys /mnt/sys
sudo chroot /mnt
grub-install /dev/sda
update-grub
exit
sudo reboot
নিজের সিস্টেম অনুযায়ী ডিভাইসের নাম বদলাতে হবে।
5. যদি সিস্টেম emergency mode-এ যায়
You are in emergency mode বার্তা সাধারণত বোঝায় যে সিস্টেম partition mount করা বা গুরুত্বপূর্ণ কনফিগারেশন পড়ার সময় গুরুতর সমস্যা পেয়েছে।
এর একটি খুব সাধারণ কারণ হলো /etc/fstab ফাইলে ভুল থাকা।
প্রথমে লগ দেখুন:
journalctl -xb
তারপর fstab পরীক্ষা করুন:
cat /etc/fstab
সাধারণ ভুলগুলো:
- ভুল UUID
- অস্তিত্বহীন mount point
- fstab-এ বাহ্যিক ড্রাইভ আছে কিন্তু বর্তমানে সংযুক্ত নয়
সমস্যা পেলে ফাইল সম্পাদনা করুন:
nano /etc/fstab
তারপর সিস্টেম রিবুট করুন।
6. যদি fsck বা file system-এর সমস্যা থাকে
fsck failed বা UNEXPECTED INCONSISTENCY ধরনের বার্তা সাধারণত file system corruption নির্দেশ করে।
এটি প্রায়ই বিদ্যুৎ চলে যাওয়া বা জোর করে বন্ধ করার পরে ঘটে।
Recovery Mode বা Live USB থেকে পরীক্ষা করা বেশি নিরাপদ:
sudo fsck -f /dev/sda1
চলমান root partition-এর ওপর সরাসরি fsck চালানো উচিত নয়।
ডিস্কের স্বাস্থ্যও পরীক্ষা করা উচিত:
sudo smartctl -a /dev/sda
যদি SMART অনেক ত্রুটি দেখায়, তাহলে আগে গুরুত্বপূর্ণ ডেটা ব্যাকআপ নেওয়া জরুরি।
7. যদি systemd service ব্যর্থ হয়
কখনও kernel ঠিকমতো চালু হয়, কিন্তু একটি গুরুত্বপূর্ণ service শুরু না হওয়ায় পুরো সিস্টেম আটকে যায়। এ সময় সাধারণত এমন বার্তা দেখা যায়:
Failed to start ...Dependency failed for ...
এক্ষেত্রে TTY-তে ঢোকার চেষ্টা করুন:
Ctrl + Alt + F2
লগইন করার পরে ব্যর্থ service পরীক্ষা করুন:
systemctl --failed
journalctl -xb
নির্দিষ্ট service-এর বিস্তারিত দেখতে:
systemctl status NetworkManager
journalctl -u NetworkManager -b
যদি serviceটি খুব গুরুত্বপূর্ণ না হয়, সাময়িকভাবে disable করে পরীক্ষা করা যেতে পারে যে সিস্টেম এগোয় কি না।
8. যদি kernel বা initramfs সমস্যার কারণ হয়
যদি kernel update-এর পরে সমস্যা শুরু হয়, তাহলে নতুন kernel বা initramfs-এ সমস্যা থাকতে পারে। এক্ষেত্রে GRUB থেকে পুরনো kernel দিয়ে বুট করে দেখুন:
- GRUB খুলুন
- Advanced options নির্বাচন করুন
- পুরনো kernel সংস্করণ নির্বাচন করুন
যদি তাতে বুট হয়, তাহলে initramfs নতুন করে তৈরি করা যায়:
sudo update-initramfs -u
9. যদি GPU driver সমস্যার কারণ হয়
অনেক সময় Linux আসলে চালু হয়েছে, কিন্তু GPU driver-এর সমস্যার কারণে graphical environment দেখা যায় না। এটি বিশেষ করে NVIDIA আপডেটের পরে বেশি দেখা যায়।
GRUB-এ অস্থায়ীভাবে nomodeset যোগ করে দেখুন:
linux /boot/vmlinuz ... quiet splash nomodeset
যদি এতে সিস্টেম ঢুকে যায়, তাহলে খুব সম্ভবত সমস্যা graphics driver-এ। এরপর driver পুনরায় ইনস্টল করতে হবে।
10. ডিস্কের জায়গা ফুরিয়ে যাওয়ার বিষয়টি ভুলবেন না
অনেক সময় আসল কারণ খুব সাধারণ: root partition বা /boot একেবারে ভর্তি।
এর ফলে আপডেট ঠিকমতো সম্পন্ন হয় না এবং পরের বুটে সমস্যা দেখা দেয়।
জায়গা পরীক্ষা করুন:
df -h
যদি জায়গা খুব কম থাকে, তাহলে cache ও পুরনো package মুছে ফেলুন:
sudo apt clean
sudo apt autoremove
প্রয়োজনে পুরনো kernel এবং বড় log file-ও সরাতে হবে।
11. কিছুই কাজ না করলে আগে ডেটা ব্যাকআপ নিন
যদি TTY, Recovery Mode এবং সাধারণ মেরামত পদ্ধতি কাজ না করে, তাহলে Live USB দিয়ে বুট করে আগে গুরুত্বপূর্ণ ফাইল ব্যাকআপ নেওয়া নিরাপদ। বিশেষ করে ডিস্কের হার্ডওয়্যার সমস্যা সন্দেহ হলে এটি আরও গুরুত্বপূর্ণ।
Live USB থেকে আপনি:
- গুরুত্বপূর্ণ ফাইল কপি করতে পারবেন
- fsck চালাতে পারবেন
- GRUB পুনরায় ইনস্টল করতে পারবেন
- configuration file পরীক্ষা করতে পারবেন
- ডিস্কের স্বাস্থ্য যাচাই করতে পারবেন
সারসংক্ষেপ
Linux চালুর সময় ত্রুটি বার্তা দেখানো মানেই যে পুরো সিস্টেম নতুন করে ইনস্টল করতে হবে, তা নয়। অনেক ক্ষেত্রেই বার্তাটি ভালোভাবে পড়ে এবং ধাপে ধাপে পরীক্ষা করে সমস্যা সমাধান করা যায়।
- ত্রুটির সঠিক বার্তা লিখে রাখুন
- বিস্তারিত বুট লগ দেখান
- TTY, Recovery Mode বা Live USB ব্যবহার করুন
- GRUB, file system, service, kernel, driver এবং disk space পরীক্ষা করুন
- ডিস্ক নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকলে আগে ডেটা বাঁচান
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো না ভেবে reinstall না করা, বরং ত্রুটি বার্তাকে সূত্র হিসেবে ব্যবহার করে আসল কারণ খুঁজে বের করা।